• হানাফী ফিক্বহ গ্রন্থ নিহায়া, মুজতাবা, ফাতাওয়া সিরাজিয়্যাহ, মুহীত প্রভৃতি গ্রন্থে আছে যে, ইমাম আবূ হানীফার মতে ফারসী ভাষাতে জুমার খুতবা দেয়া জায়েজ।
• হানাফী ফতোয়ার কিতাব শামীতে আছে, আরবী ভাষায় খুতবা দেয়া শর্ত নয়।
• হানাফী ফিকহ গ্রন্থ হিদায়ায় আছে, প্রত্যেক ভাষায় খুতবার নছীহত চলতে পারে। (কিতাবুল জুমআহ ৫৫-৫৬) (আলোচনা দ্র: আইনী তোহফা সলাতে মুস্তফা১/৯৮-৯৯)সুতরাং যে খুতবা আরবীতে হত তারই ভাবার্থ স্থানীয় ভাষায় হলে মুসলিমদেরকে সপ্তাহান্তে একবার উপদেশ ও পথনির্দেশনা দান করার মত মহান উদ্দেশ্য সাধিত হয়। সঊদী আরবের বরেণ্য মুফতী শাইখ ইবনে উসাইমীন(রহ:) কে আরবী ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় খুতবা প্রদানের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই মাসআলায় বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে, উপস্থিত মুসল্লীগণ যে ভাষা বুঝে না সে ভাষায় জুমু’আর খুতবা প্রদান করা জায়েয নয়। যদি উপস্থিত মুসল্লীগণ অনারব হন- তাঁরা আরবী না বুঝেন, তবে তাদের ভাষাতেই খুতবা প্রদান করবে। কেননা তাদেরকে বুঝানোর জন্য এ ভাষাই হচ্ছে বক্তৃতা করার মাধ্যম। আর জুমু’আর খুতবার লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে আল্লাহর বিধি-বিধান বর্ণনা করা, তাদেরকে ওয়াজ–নসীহত করা। তবে কুরআনের আয়াত সমূহ অবশ্যই আরবী ভাষায় পাঠ করতে হবে। অতঃপর মাতৃভাষায় তাঁর তাফসীর করে দিবে। আর মাতৃভাষায় খুতবা প্রদানের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ বলেনঃ
“আমি সব নবীকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে।” (সূরা ইবরাহীম: ৪)
এখানে আল্লাহ তা’আলা বর্ণনা করে দিলেন যে, সম্প্রদায়ের লোকেরা যে ভাষা বুঝে সে ভাষাতেই তাদের সামনে বক্তৃতা করতে হবে।(ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, পৃষ্ঠা ৪৪৯)